পূর্ব জেরুজালেমে পরিচালিত ব্রিটিশ কনস্যুলার কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল। তেল আবিবের এই নির্দেশনা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাজ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ এই নতুন পরিচয়ে তাদের কূটনৈতিক দপ্তর আগের মতোই চালু থাকবে। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের জেরে উভয় রাষ্ট্রের সম্পর্কে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে ব্রিটিশ কনসাল জেনারেলের পাশাপাশি প্রায় বিশ জন কূটনীতিকের মেয়াদ উত্তীর্ণ ধরা হবে এবং তাদের দেশটি ত্যাগ করতে হবে।
তবে পুরো দপ্তর একেবারে তালাবদ্ধ না করে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরিসরে ব্যবহারের সুযোগ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েলি প্রশাসন, যার শর্ত হিসেবে কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে হবে।
বিপরীতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট জানিয়েছেন, কনস্যুলেটের কার্যক্রম কোনোভাবেই গুটিয়ে নেওয়া হবে না। ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, পরিবর্তিত ব্যানারে এই কূটনৈতিক মিশন সম্পূর্ণ সার্বভৌমভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চলমান যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং প্রাত্যহিক নাগরিক সেবাগুলো নিরবচ্ছিন্ন রাখবে।
লন্ডন শুরু থেকেই পূর্ব জেরুজালেমের ওপর তেল আবিবের একক কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেয় না, বরং এই এলাকাকে ইসরায়েলি সামরিক দখলে থাকা অঞ্চল বলেই গণ্য করে। ফলে ব্রিটিশ দপ্তরটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কোনো আইনি অধিকার ইসরায়েলের নেই বলেই মনে করে যুক্তরাজ্য।
মূলত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ওইসব এলাকা থেকে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ দেওয়ার ঘটনা থেকেই এই তিক্ততার সূচনা। ব্রিটিশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েল।
১৮৩৯ সালে গোড়াপত্তন হওয়া পূর্ব জেরুজালেমের এই ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ দপ্তরটি ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ এবং পশ্চিম তীর, গাজা ও জেরুজালেমের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের মূল মাধ্যম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। এই সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের ফলে মিশনটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এবং দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আলজাজিরা