সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ জাতির প্রেরণা : রুহুল কবির রিজভী

স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর নির্বাচন কমিশন, অবাধ গণমাধ্যম এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুমহান প্রত্যাশা নিয়েই শহীদ জেহাদসহ অগণিত নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের আত্মত্যাগ জাতির প্রেরণা : রুহুল কবির রিজভী
স্বৈরাচারী শাসন অবসানের সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী নাজির উদ্দিন জেহাদসহ সকল গণতান্ত্রিক শহীদের ত্যাগ জাতিকে প্রতিনিয়ত প্রেরণা জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, তাঁদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের পথ ধরেই দেশে বারবার ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন বেগবান হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনানী শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের ব্যানারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে রিজভী উল্লেখ করেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর নির্বাচন কমিশন, অবাধ গণমাধ্যম এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুমহান প্রত্যাশা নিয়েই শহীদ জেহাদসহ অগণিত নেতাকর্মী নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে রাজপথের আন্দোলনে শামিল হয়ে তিনি বুলেটে প্রাণ দেন, যা তৎকালীন এরশাদবিরোধী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে ধাবিত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, নব্বইয়ের আন্দোলনে শহীদ জেহাদ ও ডা. মিলনের পাশাপাশি জাফর, জয়নাল, হারুন ও মোজাম্মেলদের মতো ছাত্রনেতাদের রক্ত বৃথা যায়নি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পরেও দেশে বারবার নাগরিক অধিকার খর্ব করার অপচেষ্টা হয়েছে, কিন্তু শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে পুনরায় রুখে দাঁড়াতে শক্তি জুগিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানও দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিক পরিণতি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত দিনগুলোতে নানা শারীরিক অসুস্থতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান এবং পরবর্তীতে তারেক রহমানের সফল নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি চব্বিশের গণআন্দোলনে শহীদ সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মুগ্ধ ও আহনাফদের রক্তের ঋণ স্মরণ করেন।

বিগত শাসনামলের আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ লুটের ঘটনা এবং গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, স্বৈরতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলেও প্রশাসন ও সমাজে তাদের দোসররা এখনো তৎপর। দুর্নীতির পক্ষে অতীতে দেওয়া বিভিন্ন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ও পুলিশ প্রশাসনের অসদুপায় অবলম্বনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রশাসনের এমন মনোভাব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেকোনো প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিলে সাধারণ মানুষের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

একইসঙ্গে তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডসহ কলকারখানা চালুর মতো জনবান্ধব অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানান। দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপশক্তির পুনরুত্থান ঠেকানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক উৎসবে শামিল হয়ে সৌহার্দ্য রক্ষা করে আসছে। কোনো চক্রান্তকারী যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, তাই পূজামণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও সকল নাগরিককে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব এবং খন্দকার লুৎফর রহমান।