সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে কিশোরগঞ্জে মহাসমাবেশ

সমাবেশে মূল বক্তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী জানান, ধর্মের মৌলিক চেতনা ও বিশ্বাসের ওপর যেকোনো আঘাত সাধারণ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে অমুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করার দাবিতে কিশোরগঞ্জে এক প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ব্যবস্থাপনায় শনিবার অপরাহ্ণে ঐতিহ্যবাহী শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা শাখার সর্বোচ্চ প্রতিনিধি মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।


সমাবেশে মূল বক্তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী জানান, ধর্মের মৌলিক চেতনা ও বিশ্বাসের ওপর যেকোনো আঘাত সাধারণ জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের নির্দিষ্ট আসনের ওপর কালেমা খচিত নান্দনিক শিল্পকর্ম সংযোজনের মাধ্যমে বর্তমান প্রশাসন ইসলামি চেতনার প্রতি যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানান তিনি। একই সাথে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, জনআকাঙ্ক্ষার ওপর আস্থা রেখে জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

বিশ্বের একাধিক মুসলিম রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিশ্বজুড়ে বহু দেশে কাদিয়ানিদের ইতিপূর্বে অমুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশেও এটি বাস্তবায়নের যৌক্তিক সময় এসেছে। ইসলামি বিশ্বাস মতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পর আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। অথচ উক্ত সম্প্রদায় নিজেদের মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ বিশ্বাসীদের বিভ্রান্ত করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। এ কারণে অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে অমুসলিম ঘোষণার জোর দাবি জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশীদ ঘোষণা করেন, ধর্মীয় আকিদা ও স্বকীয়তা রক্ষায় স্থানীয় আলেমসমাজ ও আমজনতা ঐতিহাসিককাল থেকেই আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছে। ঈমানি সত্য রক্ষায় আত্মত্যাগে প্রস্তুত থাকলেও পবিত্রতায় কোনো ধরনের আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে রাজপথের গতিধারা জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মুফতি আব্দুর রহিমের সাবলীল পরিচালনায় উক্ত সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ সমবেত হন, যার ফলে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য উপস্থাপন করেন, যাদের মধ্যে মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, পীর মাওলানা শাহ ইসমাঈল, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি বশির উল্লাহ, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা মুহিবুল্লাহসহ অনেকেই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।