আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে কোনো ধরনের খাদ্যসংকট তৈরি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ে বর্তমানে শস্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে এবং সম্ভাব্য বাড়তি চাহিদা বিবেচনায় রেখে তা আরও স্ফীত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রামের জেটি ও সাইলো এলাকা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেওয়ানহাট সিএসডির খাদ্যগুদামগুলো ঘুরে দেখেন এবং হালিশহর সিএসডিতে নবনির্মিত সম্মেলনকক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
খাদ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে কেবল পণ্য মজুত করাই যথেষ্ট নয়, বরং এর বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ, দক্ষ পরিচালনা ও যথাসময়ে বণ্টন নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। রমজান মাসে বাজারে পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল নিরবচ্ছিন্ন রাখা, অপচয় বন্ধ করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে কর্মকর্তাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের টানাপোড়েনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টির ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দেন আফরোজা খানম। তিনি বলেন, ভোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা ও সার্বিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাজারে পণ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
আঞ্চলিক চাহিদা, গুদামগুলোর বর্তমান ধারণক্ষমতা ও বণ্টন পরিকাঠামোর বাস্তবসম্মত পর্যালোচনার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রতিটি স্তরে সমন্বয় থাকলে পরিবহন খরচ, অযথা সময় নষ্ট ও শস্যক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব।
পরিদর্শনকালে তিনি খাদ্যগুদামগুলোর নিয়মিত দেখভাল, মজুতকৃত খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সচল রাখার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। এছাড়া পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার করে পুনরায় কার্যকর করা, মজুতের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
উক্ত কার্যক্রমে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।