সোমবার মধ্যরাতে রাশিয়ার মূল আঘাতটি নেমে আসে কিয়েভের একটি রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে ডিপোতে। সেখানে কর্মরত অবস্থাতেই প্রাণ হারান ইউক্রেনীয় রেলের ছয়জন কর্মী। রাজধানী কিয়েভের অভ্যন্তরে মোট আটজনের মৃত্যুর পাশাপাশি তিনটি পৃথক স্থানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বোরিসপিল শহরের একটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে চালানো আঘাতে আরও চারজনের প্রাণহানি ঘটে।
পরবর্তীতে জানা যায়, বোরিসপিলের সেই আবাসিক ভবনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ রয়েছেন, যাঁর জন্মদিনের দিনেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি এই তথ্য প্রকাশ করেন। বিশেষ উল্লেখ্য, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়াকে সংঘাত বন্ধের তাগিদ দেওয়ার ঠিক পরদিনই এই ঘটনা ঘটল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সামরিক তৎপরতার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা মূলত দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক কারখানা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান চালিয়েছে। জবাবে ইউক্রেনের পাল্টা আঘাতে রাশিয়ার বেলগোরোদ ভূখণ্ডে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত গভর্নর।
টানা হামলায় কিয়েভ ছাড়াও ইউক্রেনের প্রায় আটটি প্রশাসনিক অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করতে সাড়ে তিনশরও বেশি কর্মী রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন।