সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস

আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ গ্যাস আহরণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেড়শতটি কূপ খননের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস
আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। নতুন প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের বিগত সাত মাসে দেশজুড়ে মোট ৩২টি গ্যাসকূপের খননকাজ শেষ হয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় একশত আটচল্লিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় যোগ হচ্ছে।

আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ গ্যাস আহরণ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেড়শতটি কূপ খননের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পরবর্তী ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সময়কালের মধ্যে আরও দেড়শত কূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত হলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের গতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ঠেকানো সম্ভব হবে।

জাতীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে, ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া বত্রিশটি কাঠামোর মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের অধীনে চৌদ্দটি কূপ রয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত বিয়ানীবাজারের দুটি, কৈলাশটিলার চারটি, রশিদপুরের চারটি এবং সিলেটের চারটি কূপ। অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্স সম্পন্ন করেছে এগারোটি কূপ, যার মধ্যে টবগি, শ্রীকাইল, শরীয়তপুর, ভোলা নর্থ, ইলিশা, সুন্দলপুর, বেগমগঞ্জ, জামালপুর, সেমুতাং ও রূপগঞ্জের বিভিন্ন কাঠামো রয়েছে। বাকি সাতটি কূপ খনন করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, যা তিতাসের চারটি সহ হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও কামতা অঞ্চলে অবস্থিত।

প্রাথমিক প্রাক্কলনে এসব উৎস থেকে দৈনিক একশত চৌত্রিশ দশমিক চার মিলিয়ন ঘনফুট জ্বালানি পাওয়ার আশা করা হলেও হবিগঞ্জের একটি কূপে অধিক প্রাপ্তির কারণে বর্তমানে দৈনিক প্রায় একশত সাতচল্লিশ দশমিক নয় মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তবে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়লেও সঞ্চালন অবকাঠামোর অপ্রতুলতার কারণে আরও প্রায় ষাট মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ লাইনে যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উত্তোলনের সমান্তরালে দ্রুত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপনের তাগিদ দেখা দিয়েছে।

চলমান দেড়শত কূপের রূপরেখার অধীনে আগামী জানুয়ারির মধ্যে রশিদপুর, সুন্দলপুর, তিতাস, ভোলা ও বাখরাবাদের আরও সাতটি কূপের খনন সমাপ্তির পথে রয়েছে। সেগুলো সচল হলে দৈনিক অতিরিক্ত প্রায় ছিয়ানব্বই মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ যোগ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা মূলত সঞ্চালন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে চলমান ঊনিশটি প্রকল্পের বাইরে আরও নয়টি প্রকল্প চূড়ান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আরও একত্রিশটি নতুন খননকাজ পরিচালনা করা হবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি করা এলএনজির নির্ভরতা কমাতে দেশীয় মজুত উত্তোলন অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তোলিত গ্যাস যাতে অব্যবহৃত না থাকে, সেদিকে দ্রুত নজর দিতে হবে। কারণ বর্তমানে দৈনিক তিন হাজার আটশত মিলিয়ন ঘনফুটের সার্বিক চাহিদার বিপরীতে দেশীয় ও আমদানিকৃত মিলিয়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র দুই হাজার ছয়শত মিলিয়ন ঘনফুট।

স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধানে ছাব্বিশটি গভীর ও অগভীর ব্লকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করতে বৈশ্বিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান সংস্থার শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ খনন ও সংস্কার তৎপরতার কারণে দেশীয় কোম্পানির সরবরাহ দৈনিক পাঁচশত ছেষট্টি থেকে উন্নীত হয়ে সাতশত মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে, আর আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে মিলছে প্রায় নয়শত মিলিয়ন ঘনফুট। সমন্বিতভাবে কূপ খনন এবং সংযোগ লাইনের জটিলতা দূর করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান স্বস্তি ফিরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।