শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

হাসনাত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে আলেমদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সৃষ্টি হওয়া সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আলেম সমাজের প্রতিক্রিয়া এবং বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে নীরবতা নিয়ে ওঠা সমালোচনার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন তরুণ বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

হাসনাত ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে আলেমদের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সৃষ্টি হওয়া সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আলেম সমাজের প্রতিক্রিয়া এবং বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে নীরবতা নিয়ে ওঠা সমালোচনার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন তরুণ বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে একসঙ্গে পথচলা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হাসনাতের মন্তব্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আলেমদের মনে গভীর আঘাত লেগেছে।


রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রফিকুল ইসলাম মাদানী বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

নিজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই প্রচার করার চেষ্টা করছেন যে আলেম সমাজ হাসনাত আবদুল্লাহর ক্ষেত্রে কঠোর হলেও ফজলুর রহমান বা রুমিন ফারহানার মতো রাজনীতিবিদদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে আলেমদের আন্দোলনকে কোনো বিশেষ অর্থায়ন বা স্বার্থভিত্তিক বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এই সমালোচনার জবাবে মাদানী প্রশ্ন তোলেন, অতীতের আন্দোলনগুলোতে যখন রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমান ডাক দিয়েছিলেন, তখন কতজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রাজপথে নেমেছিল? একইসাথে গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে কার আহ্বানে স্কুল-কলেজের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জমায়েত হয়েছিল—সে বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে মাদানী জানান, আন্দোলনের সময়ে হাসনাত নিজে তাকে সরাসরি ফোনে ঢাকা আসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। অচেনা নম্বর থেকে আসা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন এবং সেখানে বহু মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হাসনাতের পারিবারিক আমন্ত্রণে তার নিজ বাসভবনের মাহফিলেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে বিএনপির ওই দুই জ্যেষ্ঠ নেতার কঠোর সমালোচনা করে মাদানী তাদের ‘বাইরের এজেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, তাদের রাজনৈতিক আদর্শ বা আহ্বানে আলেমসমাজ সাড়া দেবে না। ফলে তাদের বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্যের বিরোধিতা মাঝেমধ্যে করা হলেও অধিকাংশ সময় তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কারণ তারা নীতিগতভাবে চিহ্নিত।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া নিজের বার্তায় মাদানী আরও দাবি করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলামের মতো নেতারা যখন আলেম সমাজ কিংবা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে যান, তখন সাধারণ ছাত্ররা তাদের আপন ভেবে অন্তরের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করে।

তিনি যুক্তি দেন, যখন ভালোবাসার কোনো মানুষ জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় না জেনে বা না বুঝে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট বাড়ায়।

মাদানী তার বক্তব্যের শেষে পুনর্ব্যক্ত করেন, যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা ভিন্ন আদর্শের মনে করেন, তাদের নেতিবাচক মন্তব্যে আলেমদের কোনো আক্ষেপ থাকে না। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামের অংশীদার এবং ভালোবাসার সম্পর্কের মানুষের কাছ থেকে অনুরূপ আচরণ এলে তাকে আলেম সমাজ 'বিশ্বাসঘাতকতা' বা স্বজনদের আঘাত হিসেবেই দেখে।