সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নারীর স্বাস্থ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ইআইবির

জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কারের অংশ হিসেবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ শতাংশ থেকে স্বাস্থ্য বাজেট ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার রয়েছে।

নারীর স্বাস্থ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যসেবায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ইআইবির
দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো সুসংহতকরণ এবং নারীদের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে ২৫ কোটি ইউরো বা ২৫০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের অধীনে ২০২৭ থেকে ২০৩১ মেয়াদে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে উন্নত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ মিশনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ‘নারী স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সহনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই বৃহৎ পরিকল্পনার রূপরেখা প্রকাশ করা হয়।

উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় মা ও নবজাতকের যত্ন, স্তন ও জরায়ুমুখের কর্কটরোগ (ক্যানসার) নিরাময় এবং প্রসূতিকালীন জরুরি চিকিৎসার পরিধি বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে তৃণমূলের চিকিৎসাকেন্দ্র, জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল, উন্নত রেফারেল প্রক্রিয়া ও জরুরি নিবিড় পর্যবেক্ষণ (আইসিইউ) সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি ও মহামারি পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নারী ও কিশোরীদের সুস্থতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধকে প্রাধান্য দিয়ে একটি টেকসই চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অগ্রাধিকার, যেখানে ইআইবি ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মতো বৈশ্বিক অংশীদাররা বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, শুধু নিরাময়কেন্দ্রিক না হয়ে একটি প্রতিরোধমূলক টেকসই স্বাস্থ্যকাঠামো বিনির্মাণে এই তহবিল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

ইউরোপীয় উন্নয়ন ব্যাংকটির সহ-সভাপতি মারেক মোরা উল্লেখ করেন, নারীর সার্বিক সুস্থতায় অর্থায়ন প্রকৃতপক্ষে পরিবার ও সমাজের ভিত্তি মজবুত করে এবং সামগ্রিক আর্থিক প্রবৃদ্ধিকে বেগবান করে।

প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে ইউএনএফপিএ ও তাদের সহযোগী উদ্যোগ ‘উইমেনএক্স কালেকটিভ’। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সময়ও কারিগরি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবে জাতিসংঘ সংস্থাটি।

ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কিটা জানান, প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের আর্থিক শূন্যতা দূর করতে এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী, যা বিপুলসংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত নারীকে দীর্ঘমেয়াদে মানসম্পন্ন সেবার নিশ্চয়তা দেবে।

জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কারের অংশ হিসেবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১ শতাংশ থেকে স্বাস্থ্য বাজেট ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার রয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে ১ লাখ তৃণমূল স্বাস্থ্যকর্মী যুক্ত করার সিদ্ধান্ত রয়েছে, যার বড় অংশই (৮০ শতাংশ) থাকবেন নারী। তদুপরি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৫ হাজার সনদপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ বা ধাত্রী পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে ইউএনএফপিএ। এতে জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মালিকানাধীন ইআইবি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অন্যতম শীর্ষ ঋণদাতা আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা হিসেবে ইউএনএফপিএ বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করছে, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৭৪ সাল থেকেই স্বাস্থ্যসেবায় নিবিড় অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।