তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে চায় না, তবে দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আত্মমর্যাদাশীল কোনো জাতিকে জোরপূর্বক বশ্যতা স্বীকার করানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধের পথ আগে উন্মুক্ত করেনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো হুমকি ও চাপের মুখে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল থাকবে দেশ। জাতীয় ঐক্য, কূটনৈতিক উদ্যোগ, সাধারণ জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের দৃঢ় সমর্থন এবং সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ ত্যাগের ওপর ভর করেই ইরান নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।
অপরদিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি। তিনি স্পষ্ট করেন, কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন হরমুজ প্রণালি এখনো অবরুদ্ধ রয়েছে এবং কেবল ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি সাপেক্ষেই সেখানে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তেহরানের অনুমতি ছাড়া ওই রুট ব্যবহারের সমস্ত দাবি অসত্য উল্লেখ করে তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী উক্ত জলসীমার সকল ধরণের যান চলাচলের ওপর সার্বক্ষণিক কড়া পর্যবেক্ষণ জোরদার রেখেছে।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইরানি কূটনৈতিক প্রতিনিধি জানান, সংকট সমাধানে ওয়াশিংটনকে কোন পথ অনুসরণ করতে হবে তা ইতোমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বিগত চুক্তির শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছে, তাই সমাধান পেতে হলে প্রথমত তাদেরকেই প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার তাগিদে ওমান সরকারের সাথে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন ঘটলেই কেবল পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে ইরান।