সোমবার, 5 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর হচ্ছে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

ভিনদেশি প্রযুক্তি পণ্যের সাধারণ ব্যবহারকারী হয়ে থাকা আমাদের ভবিষ্যৎ হতে পারে না। বরং স্বকীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টি, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশকে উদ্ভাবক ও রফতানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর হচ্ছে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ শ্রমভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো পেছনে ফেলে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর ব্যবস্থার দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

তিনি উল্লেখ করেন, আগামী অর্ধদশকের মাঝে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতির রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এই উদ্দেশ্য সফল করতে নবীন সমাজের নতুন ধারণা, প্রায়োগিক পারদর্শিতা এবং নিবিড় অনুসন্ধিৎসার কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অবস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভিনদেশি প্রযুক্তি পণ্যের সাধারণ ব্যবহারকারী হয়ে থাকা আমাদের ভবিষ্যৎ হতে পারে না। বরং স্বকীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টি, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্যের সমন্বয়ে বাংলাদেশকে উদ্ভাবক ও রফতানিকারক রাষ্ট্রে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিপ বা সেমিকন্ডাক্টরের নকশা প্রণয়ন, সফটওয়্যার নির্মাণ, ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং আধুনিক ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে নিজস্ব উৎপাদনের পরিচিতি গড়ে তুলতে রাষ্ট্রযন্ত্র সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে।

মঞ্চে উপস্থিত তরুণ উদ্ভাবকদের সৃজনশীলতার তারিফ করে তিনি বলেন, মিলনায়তনের তরুণদের চোখে তিনি ভবিষ্যৎ স্বনির্ভর ও অগ্রসর বাংলাদেশের স্পষ্ট রূপ দেখতে পাচ্ছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নালিশ না করে উদ্ভাবকরা নিজেদের প্রজ্ঞা দিয়ে ব্যবহারিক সংকট মোকাবিলার পথ তৈরি করেছেন।

ডিজিটাল অবকাঠামোগত প্রসারের বিষয় টেনে তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ যুবশক্তি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগ আমাদের নতুন সম্ভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছে। এখন সেই ভিত্তির ওপর নিজস্ব উদ্ভাবন, নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও পেশাগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই প্রধান দায়িত্ব।

তিনি যোগ করেন, আজকের স্বীকৃতি পাওয়া উদ্ভাবনগুলো জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল সুবিধার সমন্বয়ে সাধারণের জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে এবং বাস্তব বাধা দূর করতে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। এসব কাজ কোনোভাবেই বিদেশি নকশার অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং স্থানীয় সংকটের নিখুঁত দেশীয় সমাধান।

তরুণদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের দীর্ঘ যাত্রাপথের সমাপ্তি নয়, বরং সম্ভাবনাময় এক নতুন সূচনামাত্র। প্রাথমিক কোনো নকশাকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে তা থেকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে গবেষণা, আর্থিক সংস্থান ও সহায়ক সরকারি নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এসব অগ্রযাত্রায় নবীনদের পাশে রাষ্ট্রের সার্বিক সহায়তা থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, এবারের আয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে সর্বমোট ৩৫৫টি উদ্ভাবনী প্রস্তাবনা জমা পড়েছিল। দুই দিনের নিবিড় পর্যালোচনার পর সেখান থেকে শীর্ষ ৪৪টি তথ্যপ্রযুক্তিগত উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান করে বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্ক (বিন)।

সংগঠনটির সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীরের সভাপতিত্বে সমাপনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী।