শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সন্তানকে আদর্শ নাগরিক গঠনে পরিবারের ভূমিকা সর্বাগ্রে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

প্রতিটি পরিবারকেই নিজ নিজ সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সন্তানকে আদর্শ নাগরিক গঠনে পরিবারের ভূমিকা সর্বাগ্রে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

প্রতিটি পরিবারকেই নিজ নিজ সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকদের ওপর ভিত্তি করে একটি সন্তানকে নীতিবান ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অসম্ভব; বরং একজন শিক্ষার্থীর সার্বিক মানসিক বিকাশে পরিবার এবং পিতামাতার দায়িত্বই সবচেয়ে অপরিসীম।


শুক্রবার দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলা পরিষদ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজিত উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন।

বক্তব্যদানকালে মন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজেদের সন্তানদের প্রতিটি পদচারণার দিকে খেয়াল রাখা অতীব জরুরি। পড়াশোনার অজুহাতে সন্তান গৃহের বাইরে গিয়ে কোথায় সময় অতিবাহিত করছে বা কোনো অসত্য তথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে কি না, তা অভিভাবকদেরই তদারকি করতে হবে। একটি সন্তানের মৌলিক চরিত্র, মূল্যবোধ ও জীবনের শক্ত ভিত্তি রচিত হয় তার পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকে। আধুনিক আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে অভিভাবকগণ সতর্ক না হলে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা বিপথগামী হয়ে মাদক ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি আরও তুলে ধরেন যে, সন্তানদের শুধু বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিলেই মা-বাবার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাদের প্রতিটি চলাফেরা, সঙ্গ লাভ এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখা অভিভাবক সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রযুক্তির অবারিত ব্যবহারের বিষয় টেনে ডা. জাহিদ হোসেন জানান, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমের আধিক্য তরুণদের জীবনযাত্রায় বিশাল রূপান্তর ঘটিয়েছে। যার দরুন অভিভাবকদের ভূমিকা এখন আরও বেশি সতর্কতামূলক হওয়া প্রয়োজন। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ভালো ফলাফল অর্জনই শেষ কথা নয়; সন্তানকে একজন সৎ, সহানুভূতিশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অভিভাবক সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি আরও পরামর্শ দেন, সন্তানদের সাথে কোনো দূরত্ব না রেখে বন্ধুসুলভ আবহ তৈরি করতে হবে, তাদের আবেগ-অনুভূতির কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। পারিবারিক কাঠামোর ভেতর সুন্দর ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে কোমলমতিদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ স্বাভাবিক নিয়মে বিকশিত হবে।

পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রাগপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।