সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানঘাঁটি কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের এক রক্তক্ষয়ী হামলায় কমপক্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অর্ধশত ব্যক্তি।
শনিবারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে বিমানবন্দরটির বিমান চলাচল সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই হতাহতের খবর প্রকাশ করেছে।
দুপক্ষের মধ্যকার সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যেই এই বড় ধরনের আঘাত হানল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি। আকস্মিক এই হামলার পর অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অন্য দিকে এই আক্রমণের দায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন হুতিদের শীর্ষস্থানীয় মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি উল্লেখ করেন, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই রিয়াদ ছাড়াও দেশটির দক্ষিণাংশের আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে হুতিদের বিরুদ্ধে, যাতে একাধিক ব্যক্তি হতাহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের বিভিন্ন হুতি ঘাঁটিতে জোরালো আকাশপথে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে রিয়াদ সমর্থিত সামরিক জোট। তবে এসব বিমান হামলায় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নাগরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলো এড়িয়ে চলতে বলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১৫ সালে সানা বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়ার পর ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে রিয়াদ। ২০২২ সালের সাময়িক অস্ত্রবিরতির ফলে সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেও সম্প্রতি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তৎপরতাকে ঘিরে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
চলতি মাসেই রিয়াদে বৈশ্বিক জ্বালানি কংগ্রেস এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠানের সূচি রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রাক্কালে প্রধান বিমানবন্দরে এই আক্রমণ সৌদির বাণিজ্য ও পর্যটন হাব গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক মেগা ইভেন্টগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।