বুধবার সকালে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ শীর্ষক কর্মশালা ও গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রতিষ্ঠানটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুহিত জানান, ২০২৪ সালের টিকাদান অভিযানে সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাব এবং নীতিগত ত্রুটির কারণে যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তারই পরিণতি আজকের এই প্রাদুর্ভাব। হাজারটা আইসিইউ শয্যা বা ভেন্টিলেটর বসিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, প্রতিষেধক টিকা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই এর প্রধান উপায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সময়সীমা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিকাদানের গতি দ্বিগুণ করা হলেও মহামারি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই সময়ে মাঠপর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে শিশুমৃত্যু সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
শিশু চিকিৎসাসেবা তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের ৫টি বিভাগীয় শহরে নবনির্মিত ৫টি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করবে। পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যখাতকে বেগবান করতে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে, যেখানে শিশু চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যখাতের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটানোর পদক্ষেপ হিসেবে তিনি জানান, ঘরে ঘরে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দ্রুততম সময়ে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্য মাঠকর্মী এবং সংকট সমাধানে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতের জনবল কাঠামো সুষম রূপ পায়।
উক্ত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক। গবেষণার সারসংক্ষেপ ও ডেটা যৌথভাবে উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বি-র ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।