শুক্রবার, 25 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মক্কায় হামলার অভিযোগে হুথিদের কঠোর সমালোচনা সৌদি বাদশাহর

প্রাত্যহিক রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সাধারণত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পরিচালনা করলেও বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে স্বয়ং বাদশাহর এই কড়া হুঁশিয়ারিকে অর্থবহ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মক্কায় হামলার অভিযোগে হুথিদের কঠোর সমালোচনা সৌদি বাদশাহর

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের তীব্র ভর্ৎসনা করে তাদের কর্মকাণ্ডকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ।

একই সঙ্গে পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রচেষ্টাকে পুরো মুসলিম জাহানের অনুভূতিতে মারাত্মক আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক অধিবেশনে ৯০ বছর বয়সী এই সৌদি শাসক এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।

প্রাত্যহিক রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি সাধারণত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পরিচালনা করলেও বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে স্বয়ং বাদশাহর এই কড়া হুঁশিয়ারিকে অর্থবহ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পবিত্র ভূমির পবিত্রতা রক্ষা এবং হজ পালনকারী, সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় সৌদি সশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা বাহিনী যেকোনো ধরনের সামরিক হুমকি প্রতিরোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদির আকাশসীমা সুরক্ষা বিভাগ দাবি করে যে, মক্কার আকাশসীমার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি হুথি ড্রোন তারা মাঝপথেই ধ্বংস করেছে। এই ঘটনার পর প্রায় এক দশক পর মক্কা অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে হুথিদের সর্বোচ্চ নেতা আবদুল-মালিক আল-হুথি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পুরোপুরি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও শহরগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট উৎক্ষেপণ বাড়িয়েছে হুথিরা। গত শনিবারও রাজধানী রিয়াদের আকাশসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করে সৌদি জোট, যার পরপরই স্থানীয় প্রধান বিমানবন্দরের জ্বালানি মজুতাগারের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পর লোহিত সাগর দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার সময়ে এ ধরনের আক্রমণ বিশ্ববাজারে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাদশাহ সালমান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে যুবরাজ সালমানের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথাও তুলে ধরেন। আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মধ্যেই গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়, যার আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা সম্মিলিত আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করার অঙ্গীকার রয়েছে।