জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনকে যাবতীয় দলীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার স্পষ্ট তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের খেলার অঙ্গনে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনীতিকরণের অনুপ্রবেশ ঘটে, যা সামগ্রিক প্রতিযোগিতার মানকে নিচের দিকে নামিয়ে দেয়। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলো থেকে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও অংশগ্রহণ ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে।
শনিবার রাজধানীর অভিজাত ঢাকা ক্লাবের মিলনায়তনে মোহামেডান সমর্থক দলের কেন্দ্রীয় পর্ষদ আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও প্রীতি সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন।
নিজের স্মৃতিতর্পণ করে স্পিকার জানান, সাদা-কালো শিবিরের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি তাঁর কাছে আজীবন গভীর অনুরাগ ও ভালোলাগার অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। বর্তমান প্রজন্মের কাছে মাঠের খেলার আবেদন কিছুটা ফিকে হয়ে এলেও ১৯৬৭ সালে তিনি যখন সক্রিয় খেলোয়াড় হিসেবে এই ক্লাবের জার্সি গায়ে মাঠে নামতেন, তখন সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ফুটবল ঘিরে যে উন্মাদনা ছিল তা ছিল অভাবনীয়।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই যুগে মোহামেডানের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। একাত্তরের পূর্বে ভিক্টোরিয়া ও মোহামেডান শীর্ষ জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে থাকলেও মোহামেডানে বাঙালি অ্যাথলেটদের প্রাধান্য থাকায় সাধারণ মানুষের সমর্থন ছিল এই দলের দিকেই বেশি। এমনকি অভ্যন্তরীণ ক্লাব স্তর থেকে শুরু করে জাতীয় স্কোয়াডে স্থান করে নিতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাঙালিদের নিজেদের মেধার প্রমাণ দিতে হতো।
বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে সরিয়ে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে মাঠের ক্রীড়াচর্চাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজনের সূচনালগ্নে ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল সোনালি অতীত এবং স্বয়ং স্পিকারের বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনের খণ্ডচিত্র নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর স্পিকারসহ উপস্থিত বিশিষ্টজনদের স্মারক সম্মাননা, উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অন্যান্য বক্তারাও বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে ক্রীড়া ক্ষেত্রকে সামাজিক ঢাল হিসেবে গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন।
মোহামেডান সমর্থক দলের সাধারণ সম্পাদক এফ. এম রফিক উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি এস এম আলমগীর আবুলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও অংশ নেন সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. হাতেম, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবীর খোকন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এ ছাড়া শীর্ষস্থানীয় সাবেক ক্রীড়াবিদ, সংসদ সদস্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এই পুনর্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন।