সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সুদান-মিসর সীমান্তে বিমান হামলা, ৭২ স্বর্ণখনি শ্রমিক নিহত

বেসামরিক মানুষের ওপর এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইমার্জেন্সি লয়ার্স।

সুদান-মিসর সীমান্তে বিমান হামলা, ৭২ স্বর্ণখনি শ্রমিক নিহত
মিসর ও সুদানের সীমান্ত এলাকায় সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন সাধারণ স্বর্ণখনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। 

সুদানের রাজধানীভিত্তিক অধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ জানিয়েছে, শনিবার সকালে সুদানের নীল নদ প্রদেশের একটি পরিচিত স্বর্ণখনন এলাকায় এ বিধ্বংসী আঘাত হানা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে একটি সামরিক যুদ্ধবিমান খনি শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসন লক্ষ্য করে একের পর এক অন্তত পাঁচটি রকেট নিক্ষেপ করে। তীব্র বিস্ফোরণে শ্রমিকদের ছাউনি এবং ভূগর্ভস্থ খাদগুলো ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংবাদমাধ্যম সুদান ট্রিবিউনকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বহু শ্রমিক সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর খতিয়ান আরও বহু গুণে বাড়তে পারে।

এ রক্তাক্ত হামলার বিষয়ে কায়রো প্রশাসন কিংবা সুদানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে বিগত দিনগুলোতেও অবৈধ তৎপরতা দমনের যুক্তি দেখিয়ে সীমান্ত সন্নিকটে স্বর্ণ আহরণকারীদের ওপর এমন প্রাণঘাতী সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মিসরের বাহিনীর বিরুদ্ধে। মিসরীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার, বেআইনি অনুপ্রবেশ ও অননুমোদিত খনি উত্তোলন রোধে তারা নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে থাকে।

বেসামরিক মানুষের ওপর এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইমার্জেন্সি লয়ার্স। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিজ দেশের ভৌগোলিক সীমানায় খার্তুম প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতার চিত্র স্পষ্ট করে তোলে বলেও সংস্থাটি মত দিয়েছে।

সুদানে দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই জীবনধারণের তাগিদে প্রশাসনিক অনুমোদনহীন বিপজ্জনক খনিগুলোতে স্বর্ণ আহরণে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। স্বর্ণসমৃদ্ধ নীল নদ অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবেই পাচারকারীদের প্রধান পথ হওয়ায় সেখানকার আহরিত সম্পদ সরাসরি বিভিন্ন সশস্ত্র মিলিশিয়ার অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি এই অননুমোদিত স্বর্ণ প্রবেশ করায় মিসরের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের ধস নামার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় গত জুনে মিসরের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ৮৬ টন ওজনের আকরিক স্বর্ণসহ বিপুল খননযন্ত্র আটক করেছিল।