সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না: চিফ হুইপ

দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না: চিফ হুইপ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন কিংবা অন্য কোনো মহলের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এবারের স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না।

রোববার সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় দলের পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। সরকারের চলমান জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জবরদখল ও চাঁদাবাজির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অপকর্মে যুক্ত কারও স্থান বিএনপিতে হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শূন্য সহনশীলতার নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে নূরুল ইসলাম জানান, উৎসবের দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা উসকানি প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ রয়েছে। নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবেন। উৎসব ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া দৃষ্টি রাখা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল ব্যাখ্যা করে চিফ হুইপ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি সম্মিলিতভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একক ও যোগ্য ব্যক্তি যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যাতে জনগণের আস্থাভাজন প্রার্থীরাই এগিয়ে আসেন। দলীয় প্রতীকবিহীন এই নির্বাচনে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সর্বাধিক জোর দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন আয়োজনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও সার্বিক প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে কোনো পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হবে না। প্রকৃত প্রস্তাবে ভোটারদের রায়ে উপযুক্ত প্রতিনিধি যেন নির্বাচিত হন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে।

সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় সংহতি ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নূরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালিত করতে চান। জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ নিবিড়ভাবে বুঝতে হবে এবং তা নিরসনে মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করতে হবে।

প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, তাদের সুরক্ষা নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। পরিস্থিতি সাপেক্ষে প্রয়োজনে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে এবং প্রবাসীদের সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সক্রিয় রয়েছে।

চিফ হুইপ এই সমাবেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের মুখ থেকে তৃণমূলের বাস্তবতা শুনেছেন এবং করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত সরকারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং দলীয় অনুশাসন অটুট রাখতেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।