রাজনীতি
তার মনে রাখা উচিত ছিল, শাহবাগই ওনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে: আবদুল্লাহ তাহের
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা মন্তব্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন তিনি।
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা মন্তব্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন তিনি। রাতে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় জামায়াতে ইসলামীর এই জ্যেষ্ঠ নেতা স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাজপথের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজকের এই স্থানে পৌঁছেছেন, যা তার ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
সংসদের পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বজায় রাখার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরে বিরোধীদলীয় এই নেতা জানান, গঠনমূলক সংসদীয় চর্চা বজায় রাখতেই তারা দায়িত্বশীল আচরণ করছেন। একই সাথে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমভোটে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়নমূলক বাজেট ও সরকারি বরাদ্দ থেকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলন হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই বৈষম্যকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেলসহ কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট ও ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ এসব জরুরি ইস্যুতে বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলেও সরকার তা উপেক্ষা করেছে। নির্ধারিত এজেন্ডা ছাড়া হঠাৎ সংসদ আহ্বান এবং বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করে এ বিষয়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও লংমার্চ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশের সর্বত্র চাঁদাবাজি ও আর্থিক অনিয়ম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা সরকারের অজানা থাকার কথা নয়। সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফাভাবে বিল পাস ও ‘সংসদীয় স্বেচ্ছাচারিতা’র প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো প্রক্রিয়ার অংশ না হতে তারা অধিবেশন থেকে বের হয়ে এসেছেন বলে জানান। মক্কা চুক্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
একই ইস্যুতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কটূক্তিমূলক মন্তব্য এবং সে সময় স্পিকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ জানান। একই সাথে গুম প্রতিরোধ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সম্পর্কিত অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিলগুলো বিরোধী দলের সাথে আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে পাস করার মাধ্যমে সরকার সংসদীয় নীতিমালার চরম লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।