বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্বব্যাপী ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িক স্থগিত করল মার্কিন প্রশাসন

বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বিশ্বব্যাপী ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িক স্থগিত করল মার্কিন প্রশাসন

বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কর্মরত কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না তা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা এবং সার্বিক ভিসা মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ছাঁচে আনাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের তারিখ বাতিলের সংবাদ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে উল্লেখ করা হলেও এই স্থগিতাদেশ ঠিক কত দিন বহাল থাকবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

হোয়াইট হাউসে পুনরায় ফিরে আসার পর থেকে অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগে জোর দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অনিয়মিত অভিবাসীদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আইনি উপায়ে অভিবাসনের ওপরও নানামুখী নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে। মতাদর্শ কিংবা নির্দিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানের কারণে অনেক ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের সুবিধা স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি পর্যটক বা বাণিজ্যিক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়প্রার্থনা করে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা প্রায় দুই লাখ ব্যক্তির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞদের ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এইচ-ওয়ানবি ভিসা নীতি সংস্কারের একটি বড় প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, যার আর্থিক প্রভাব ১০ কোটি ডলার কিংবা তার বেশি হতে পারে। এর পাশাপাশি কয়েকটি নির্দিষ্ট ধারার কাজের ভিসায় অতিরিক্ত মাশুল যুক্ত করার মাধ্যমে আসার পথ আরও ব্যয়বহুল করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাক্ষাৎকার স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত আসার আগে মার্কিন একটি আদালত পঁচাত্তরটি দেশের অধিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশকে আইনি এখতিয়ারবহির্ভূত ঘোষণা করে রায় প্রদান করে। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন এসব পদক্ষেপর পক্ষে অবস্থান নিলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই ধরনের নীতিকে মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।