ফেনীর জনগণের প্রতি বিএনপির গভীর আস্থা রয়েছে এবং এই অঞ্চলের বাসিন্দারাও সবসময় দলটির পাশে অবস্থান নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর সর্বস্তরের মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।
বুধবার গভীর রাতে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশের প্রস্তুতি পর্যালোচনা শেষে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জনসভার মাঠ সাজানো এবং মঞ্চ নির্মাণের গতি খতিয়ে দেখতে তিনি ওই স্থানে যান। পরিদর্শনের সময় তিনি পুরো প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত আদান-প্রদান করেন।
সাবেক সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও স্মৃতির কথা উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের যে আবেগ ও ভালোবাসা রয়েছে, তা ১৭ তারিখের কর্মসূচিতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ফেনীর মানুষ বিএনপি ও তার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সফরের বিস্তারিত সূচি বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে পরশুরামে মুহুরী নদী কেন্দ্রিক প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের একটি বিশাল বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি পথপ্রান্তে এবং মাতৃনামঙ্কিত কলেজে চারারোপণ কর্মসূচি শেষে শ্রীপুরে মাতামহের বাসভবনে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সেখানে ফুলগাজী ডাকবাংলোয় দুপুরের খাবার ও প্রার্থনা সম্পাদন শেষে তিনি পাইলট স্কুল মাঠের মূল রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
সামাজিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি যুক্ত করেন যে, নিম্ন আয়ের ও দুস্থ পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা বিধানে তারেক রহমান ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড প্রদান করবেন। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিশেষ সম্মানি, মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অনুদান এবং জটিল ব্যধিতে আক্রান্তদের হাতে আর্থিক চেক তুলে দেবেন। চিকিৎসা অনুদানের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রশাসন অনুদানের অঙ্ক পূর্বের ৫০ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে সরাসরি এক লাখ টাকায় উন্নীত করেছে বলে জানান তিনি।
উক্ত তদারকি চলাকালে ফেনী-১ অঞ্চলের প্রতিনিধি রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম, পুলিশ প্রধান প্রাত্যুষ কুমার মজুমদারসহ স্থানীয় গণমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।