শুক্রবার সান্ধ্যকালে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণিল ‘কাওয়ালী অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কাওয়ালীর মতো চমৎকার নান্দনিক উপস্থাপনা প্রমাণ করে যে দেশীয় আচার-সংস্কৃতিতে অনুভূতির এক বিরাট স্থান রয়েছে। একই সাথে এ ধরনের আয়োজন এটিও স্পষ্ট করে যে, যারা ধর্মের নামে বাড়াবাড়িতে বিশ্বাসী ও মানবজীবন থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখে, সুফি ভাবধারার চর্চা তাদের চিন্তা-চেতনা থেকে একদম ভিন্ন।
উপমহাদেশে শান্তির বার্তাবাহী ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে কাওয়ালী ও সুফিবাদী চর্চা যে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিল, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। তিনি তুলে ধরেন, মহান সৃষ্টিকর্তা শুধুই বিচারক নন; তাঁর সৃষ্টি জগতের সাথে নিবিড় স্নেহের বন্ধনও যে গড়ে তোলেন—কাওয়ালীর অন্তঃস্থ সুরে সেই চিরন্তন সত্যটিই ধ্বনিত হয়।
প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের এমন নান্দনিক প্রয়াসের প্রশংসা করে জহির উদ্দিন স্বপন জানান, নিকট ভবিষ্যতেই সেখানে বাউল গানের আসর বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কাওয়ালী ও বাউল সংগীতের এই চমৎকার যুগলবন্দী বাংলাদেশের মূল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেই বাস্তবে ফুটিয়ে তোলে। এই ধরনের বৈচিত্র্যময় আয়োজনগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের ইতিবাচক সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদপত্রের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভাগ্যোন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাথে তাঁর পুরোনো ও আন্তরিক যোগাযোগ উত্তরোত্তর আরও নিবিড় হবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতি পদে পরিচালনায় উক্ত প্রাশংসনীয় সন্ধ্যায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমগ্র আয়োজনটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া। এতে প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য ও সংস্কৃতি অনুরাগী বহু মানুষের উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।