সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন করছে তুরস্ক ও পাকিস্তান

চলতি বছরের আগস্টে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রেক্ষাপটেই এই যৌথ সামরিক অবস্থান গড়ে উঠেছে। ওই সমঝোতার অন্যতম প্রধান দিক হলো, অংশীদার তিন রাষ্ট্রের কোনো একটি বহিঃশত্রুর হামলার শিকার হলে অন্য মিত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াবে।

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন করছে তুরস্ক ও পাকিস্তান
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৎপরতার মুখে সৌদি ভূখণ্ডের সুরক্ষায় দ্রুতগতিতে সেনা দল পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। সম্প্রতি সম্পাদিত ত্রিদেশীয় পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ঘোষণা এসেছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে।

চলতি বছরের আগস্টে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রেক্ষাপটেই এই যৌথ সামরিক অবস্থান গড়ে উঠেছে। ওই সমঝোতার অন্যতম প্রধান দিক হলো, অংশীদার তিন রাষ্ট্রের কোনো একটি বহিঃশত্রুর হামলার শিকার হলে অন্য মিত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াবে।

ন্যাটোভুক্ত অন্যতম শীর্ষ সামরিক শক্তি তুরস্ক, পরমাণু সক্ষমতাসম্পন্ন পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী সৌদি আরবের এই সামরিক মেলবন্ধন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার পারদ দ্রুত বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও দুই পবিত্র নগরী সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। আনুষ্ঠানিক বার্তায় বিদ্রোহীদের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করা হলেও সৌদি ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি যেকোনো ঝুঁকি সম্মিলিতভাবে রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

অধিবেশনের সমাপ্তিতে প্রচারিত ঘোষণাপত্রে জানানো হয়, পারস্পরিক সুরক্ষা অঙ্গীকারের ব্যবহারিক রূপ দিতে সেনা দল মাঠে নামানোর যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তিন রাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবে তুর্কি ও পাকিস্তানি সেনাদলের সমাবেশ দ্রুততম সময়ে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে দেশটিতে পৌঁছানোর পর এই দুই দেশের বাহিনী ঠিক কী ধরনের সামরিক তৎপরতায় যুক্ত থাকবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করা হয়নি।

জুলাইয়ে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন করে উসকে ওঠার পর থেকেই সৌদি ভূখণ্ডের বিভিন্ন জনপদ, বাণিজ্যিক জ্বালানি স্থাপনা এবং নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে বিদ্রোহীরা। সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্রোহীদের অতর্কিত অভিযানে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন উল্লেখযোগ্য অংশ হাতছাড়া হলে মাঠের সংকট আরও তীব্র আকার নেয়। এমতাবস্থায় হারানো এলাকাগুলোর দখল ফিরে পেতে রিয়াদের বিমান হামলার সক্রিয় সমর্থনে সরকারি বাহিনী দেশজুড়ে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে, যার আওতায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহীদের অধীনে থাকা কৌশলগত এলাকাগুলোও।