বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জমি দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় রাজিব শেখ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে চলা এই তণ্ডবে ৪০টি বসতবাড়ি ও দোকানপাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের নিয়ন্ত্রণ ও মধুমতী চরের জমি দখল নিয়ে চিংগড়ী গ্রামের শেখ পরিবার এবং মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবক মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ বিশ্বাস পরিবারের লোকজন তাকে মাছ ধরার ধারালো অস্ত্র 'ফুলকুচি' দিয়ে আঘাত করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সন্ধ্যা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোল নিয়ে শেখ বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অন্তত ৪০টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দাবি করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের সংযোগস্থলে রাস্তার ওপর ইটের স্তূপ পড়ে আছে এবং দুই পাশে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লিয়াকত শেখ ও মনোয়ারা বেগমসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাদের জীবনের শেষ সম্বলটুকু আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এমনকি বাদ যায়নি কোটি টাকা মূল্যের দোতলা ভবনও। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল এবং হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সাঈদ বিশ্বাস ও সোহাগ মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
এদিকে, পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস বাড়ির লোকজন তাদের আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের দাবি, শেখ পরিবারের সদস্যরা সংগঠিত হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। উল্লেখ্য, এই দুই পরিবারের দীর্ঘদিনের এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মোট তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, সহিংসতা ও নিহতের ঘটনায় ইতোমধ্যে সৌরভ বিশ্বাস নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চিতলমারী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, চারুটি ইউনিট তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বাধার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল।