ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দলটিকে সতর্ক করে বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ধৈর্য ধরলেও একে দুর্বলতা ভাবা ঠিক হবে না।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সরকার অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত আচরণ বজায় রেখে চলছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে 'বেশি বাড়াবাড়ি' করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার-আলশামস-আলবদর'।
জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এই পরিবর্তন এক দিনে আসেনি। দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে এবং ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।
নিজের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি ৭১ সালে বিলোনিয়া সীমান্তে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান সময়ে যারা একাত্তরের গৌরবকে চব্বিশের বিপ্লবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করাতে চায় বা মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখতে চায়, তাদের সংযত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন ২০০৪ সালে পাকিস্তানের এক সফরের তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সে সময় জামায়াতের একজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পাকিস্তানি এক জনপ্রতিনিধি তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অবজ্ঞা করেছিলেন, যা তিনি আজও ভুলতে পারেননি। তিনি জানান, তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সর্বদলীয় কমিটি করেছেন। দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বৃহত্তর কল্যাণের কথা বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে নীরব থাকলেও, জামায়াতের অতি-তৎপরতা তাকে তাদের অতীত অপকর্ম নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।