পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘ সময় ও শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ কমাতে দেশের প্রধান দুটি মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা—এসএসসি ও এইচএসসির মোট বিষয়ের সংখ্যা এবং কর্মদিবস উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই সংক্রান্ত একটি রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে চূড়ান্ত সম্মতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যমান পদ্ধতিতে এসএসসি সম্পন্ন করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসির ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যায়। এত দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সাধারণ স্কুলগুলোতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না, যা সামগ্রিক শিখন ঘণ্টার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময়জুড়ে চলা পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীরাও চরম মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। এই সমস্যা দূর করতেই মূলত নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আগামী ২০২৮ সাল থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে নতুন শিক্ষাক্রমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেখানে নতুন চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দুটি বিষয় এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামের দুটি বিষয় শিক্ষার্থীদের পড়তে হবে। এর পাশাপাশি মাতৃভাষা বাংলা ও ইংরেজির বাইরেও তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়া হবে, যা হয়তো বিদ্যমান কোনো বিষয়ের একটি বিশেষ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হতে পারে।
সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নতুন শিক্ষাক্রমের এই ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমান শিক্ষাক্রমকে বাস্তবসম্মতভাবে সংস্কার ও পরিমার্জন করে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আর শিক্ষাব্যবস্থায় যে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে, তার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং ২০২৮ সালে তা পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। নতুন এই কারিকুলামটি অনেক আকর্ষণীয় হবে এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ চারটি নতুন বিষয় স্থান পাবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও শিক্ষাক্রমে নতুন এই বিষয়গুলো যুক্ত করার ব্যাপারে আভাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত দীর্ঘ সময়ের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলো হয়তো দ্রুততম সময়ে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় যেখানে যতটুকু সংযোজন, বিয়োজন বা পরিমার্জন করা প্রয়োজন, তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে।