দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও বড় সুখবর পেল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। প্রায় ১০৯০ কোটি টাকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পটি ফের সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)–এর ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে বড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার। এতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ১২ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ১০ তলাবিশিষ্ট তিনটি ছাত্রাবাস ও দুটি ছাত্রী হল, সাত তলার সমন্বিত অ্যাক্টিভিটি সেন্টার, দুই তলার শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এবং ১০ তলা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন। এছাড়াও মন্দির নির্মাণ, সাবস্টেশন ও পাম্প হাউস ভবন, লাইব্রেরি ও মসজিদের উল্লম্ব সম্প্রসারণ, সাবস্টেশন ও জেনারেটর স্থাপন, আরসিসি সড়ক নির্মাণ, স্টর্ম ওয়াটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন এবং গভীর নলকূপ খননের মতো বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী দ্যা ভয়েস-২৪ কে বলেন, "গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি এডিপির সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং চলতি বছরও তা পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, “গত বছর প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তির পর ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে একাডেমিক ও ফিজিক্যাল মাস্টার প্ল্যানসহ প্রায় সব প্রস্তুতিমূলক ধাপ শেষ হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি পুনরায় সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।”
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন নিয়ে আগামী রবিবার একাডেমিক ও ফিজিক্যাল মাস্টার প্ল্যান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দেওয়া হবে। এরপর ইউজিসির টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে বিষয়টি পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে উপস্থাপন করা হবে এবং পরে একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
একনেকের অনুমোদন পেলে আগামী জুলাই থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।