বগুড়ার শেরপুরে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও চালক রয়েছেন। এছাড়া এই অগ্নিকাণ্ডে তিন শিশুসহ আরও নয়জন যাত্রী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।
নিহতরা হলেন শিউলী বেগম, তায়েবা খাতুন এবং মাইক্রোবাস চালক রিন্টু। আহতদের মধ্যে ফাতেমা, শহিদুল, তৌছিব, তাসমিয়া, হেলেনা, তারিকুল, আরহাম ও হামিমসহ অন্যদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৩০৪১ নম্বরের মাইক্রোবাসটি ঈদের ছুটিতে যাত্রীদের নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে গাড়িটি ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক বিকট শব্দে সেটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আগুনের তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসার খুব একটা সুযোগ ছিল না। চালক রিন্টু গাড়ির ভেতরেই দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন জানান, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় পান। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই নারীর মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা তিনে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।