বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিণতি হতে পারে বিধ্বংসী

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পর কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের আঘাত হানে, তবে তার জবাবে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিণতি হতে পারে বিধ্বংসী
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পর কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের আঘাত হানে, তবে তার জবাবে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌ-চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর বিপরীতে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাল্টা আঘাতের মাত্রা হবে সমপরিমাণ। তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর যেকোনো হামলার কড়া জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলের পানি শোধন কেন্দ্রে হামলার যে অভিযোগ ওয়াশিংটন তুলেছে, তাকে মিথ্যাচার হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান।

বর্তমান উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্বজুড়ে সবচাইতে বড় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প যখন সংঘাত কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর ভারী যুদ্ধজাহাজ ও মেরিন সেনাদের ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইআরজিসি তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। যদিও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধি দাবি করেছেন, শত্রুভাবাপন্ন দেশ বাদে বাকি জাহাজ চলাচলের জন্য পথটি খোলা রয়েছে এবং ইতিমধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের কিছু তেল ট্যাংকারকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে; ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে এবং হিজবুল্লাহও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে।