বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত খনিজ তেলবাহী ট্যাংকার ও জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার নিশ্চিত আভাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্ববাজারে আরও কমলো জ্বালানি তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত খনিজ তেলবাহী ট্যাংকার ও জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার নিশ্চিত আভাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও হ্রাস পেয়েছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরুর পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা অসংখ্য তেলের জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করে গন্তব্যে রওনা হতে শুরু করায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের জোগান সংকটের শঙ্কা কেটে যাচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির মূল্য গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বাজারের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ বুধবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৩৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগের কার্যদিবসেও এই দুটি প্রধান জ্বালানি সূচকের দর প্রায় ১ শতাংশের মতো কমে গিয়েছিল, যা চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুর পর থেকে তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য।

চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি আলোচনা সফল হওয়ার পর ইরানকে আগামী ৬০ দিনের জন্য তেল রপ্তানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা মওকুফের সুবিধা দেওয়া এবং লেবানন অঞ্চলের সংঘাতময় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

বৈশ্বিক তেলের এই বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জাপানের মিৎসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোমোমিচি আকুতা জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের সুনির্দিষ্ট আশা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় সচল হওয়ার কারণেই মূলত অপরিশোধিত তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই পরাশক্তির মধ্যকার পরমাণু বিষয়ক আলোচনা যদি আরও ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হয়, তবে জ্বালানি তেলের বাজার দর খুব দ্রুতই যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।