লক্ষ্মীপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের সময় বসার স্থান নিয়ে কেন্দ্র করে বর ও কনেপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বড় বাড়ির পাশে বরের বাসভবনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত আটজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ইব্রাহিম খলিল, মো. অনিক, মেহেদী হাসান আনন্দ, মো. রানা, মো. ইয়ামিন, মো. সামজিদ ও মো. শা আলমসহ অন্যান্যদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ছামিয়া আক্তারের সঙ্গে টুমচর ইউনিয়নের হারুনের ছেলে ফারুক হোসেনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার বরপক্ষের বাড়িতে বৌভাত অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল। দুপুরে কনেপক্ষের আমন্ত্রিত অতিথিরা বরের বাড়িতে উপস্থিত হলে খাবারের টেবিলে বসাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাধারণ এই তর্কাতর্কি চরম উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
কনেপক্ষের দাবি অনুযায়ী, খাবারের টেবিলে বসার সময় বরপক্ষের কয়েকজন সদস্য আসন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করে চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই নিয়ে উপস্থিত কনেপক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে মন্তব্য করলে হাতাহাতির সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে বরপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং কনেপক্ষকে বহনকারী একটি মাইক্রোবাসও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই বিষয়ে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ আলম জানান, সামান্য কথা কাটাকাটির জের ধরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বরপক্ষের কোনো সদস্য সংবাদমাধ্যমের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জয়দেব নন্দী জানান, আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অধিকাংশকেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. শাহিন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুই পক্ষের সঙ্গেই প্রাথমিক কথা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।