নির্বাচনী মঞ্চ থেকে দুর্নীতি, লুটপাট ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, দেশের সবচেয়ে বঞ্চিত এলাকাগুলোতেই আগে উন্নয়ন কার্যক্রম পৌঁছাবে এবং পাচার হওয়া অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “লুটেরারা, ব্যাংক ডাকাতরা, শেয়ার মার্কেট লুণ্ঠনকারীরা আমার দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যদি আমাদেরকে সাহায্য করেন, সামর্থ্য দেন, ওদের মুখের ভেতর দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে বের করে আনব এবং সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। যে এলাকা যতটা বঞ্চিত আগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলে যাবে ওই এলাকায়। যার যেটা পাওয়া তাকে সেটা দিতে হবে।”
ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো ধরনের বৈষম্য মানা হবে না—এ কথা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা সমাজে এমন ন্যায়বিচার দেখার পক্ষে, যে বিচার একেকজনের জন্য একেক রকম হবে না একজন সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট অপরাধ করলে তার বিচারে যে শাস্তি হবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি যদি সেই একই অপরাধ করেন তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। একই বিচারের আওতায় আনতে হবে। এর নাম ন্যায়বিচার। জাতি মুখিয়ে আছে সেই বিচার দেখার জন্যে।”
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমেই জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা আগেও দেশের টাকা চুরি করেছে, তারা এখনো চুরি করে। যারা তখনো ব্যাংক লুণ্ঠন করেছে, এখনো করে। ১২ তারিখ দেশের মানুষ, সাড়ে ১২ কোটি ভোটার তাদের জন্য সাড়ে ১২ কোটি লাল কার্ড তৈরি করে রেখেছেন।”
যুব সমাজকে দেশ গঠনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের যুবকরা যেভাবে এই বাংলাদেশকে সোনার দেশ হিসেবে গড়ে দিতে পারতো, সেই সুযোগ আমরা তাদেরকে দেই নাই। আমরা ওই সুযোগ নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।”
নির্বাচিত হলে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের আশ্বাসও দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “শিশুরা পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ণ চিকিৎসা পাবে ইনশাআল্লাহ। বয়স্করা জীবনের একটা পর্যায় যখন অবসর জীবনে চলে যাবে ৬০-৬৫ বছর বয়স হয়ে যাবে, তার পরের স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।”
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।