শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে চালু হচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব করিডোরে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, সেসব এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে নিরুৎসাহিত করতে চালু করা হবে ‘কনজেশন চার্জ’ বা যানজট শুল্ক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর গণপরিবহন নিশ্চিত না করে এই ব্যবস্থা চালু করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে চালু হচ্ছে ‘যানজট শুল্ক’

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব করিডোরে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, সেসব এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে নিরুৎসাহিত করতে চালু করা হবে ‘কনজেশন চার্জ’ বা যানজট শুল্ক। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর গণপরিবহন নিশ্চিত না করে এই ব্যবস্থা চালু করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এবং আধুনিক বাসসেবাসমৃদ্ধ করিডোরগুলোতে প্রবেশকারী প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাকের ওপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত শুল্ক আরোপ করা হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে ব্যস্ত সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বহু বছর ধরেই কনজেশন চার্জ চালু রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ফি কেটে নেওয়া হয়। এর ফলে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমে এবং গণপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।

তবে ঢাকায় এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সহজ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নির্ভরযোগ্য ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে না তুলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানো হলে জনভোগান্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং অর্থায়নের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, "মানুষের সামনে আগে কার্যকর বিকল্প থাকতে হবে। মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের সক্ষমতা এমন হতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীরা সহজেই গণপরিবহনে যেতে পারেন।" তিনি ট্রাকের ওপর যানজট শুল্ক আরোপের প্রস্তাবকে ‘প্রহসন’ বলেও মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, রাজধানীর যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজও চলবে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকার যানজট কমাতে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এমআরটি-১ থেকে এমআরটি-৬ পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো নির্দিষ্ট করিডোরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানজট শুল্ক আদায় করা হবে। তবে কোন করিডোরে কত টাকা শুল্ক নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডিটিসিএর আশা, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সূত্র: সময় টিভি