শুক্রবার, 25 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ৪ বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করতে বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য আমি ৪টি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ৪ বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করাসহ চারটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উপকূলীয় অভিযোজন, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব আহ্বান জানান। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়েছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ এবং আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।

“আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে আসব; ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেব। কোনো দেশ যেন একা সমুদ্রপৃষ্ঠর উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যার মুখোমুখি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করতে পারবে না। আমাদের প্রচেষ্টা জোরদার করতে বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য আমি ৪টি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।”

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের হার আরও দ্রুত, আরও ব্যাপকভাবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গতভাবে কমাতে হবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমার মধ্যে রাখতে হবে।“

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উপকূলীয় অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমানের ভাষায়, “জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উপকূলীয় অভিযোজন কার্যক্রমে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য উপাত্ত এবং আগাম সর্তকীকরণ ব্যবস্থার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে।”

চতুর্থ পদক্ষেপে জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।