বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে আপত্তি জামায়াতের, ‘গালিগালাজ’ ঠেকানোর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত দুই বছরে রাজনীতিতে গালিগালাজের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে আপত্তি জামায়াতের, ‘গালিগালাজ’ ঠেকানোর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তাঁদের আশঙ্কা, সংশোধিত আইনটি বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এ বিষয়ে আইন সংশোধনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজের সংস্কৃতি ঠেকাতে আইনে এ-সংক্রান্ত বিধান রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

একই বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) আরও যুগোপযোগী করা এবং এর অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়েও মত দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি আশরাফ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মজিবুর রহমান, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন নাহার অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধন নিয়ে আলোচনার সময় জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি আইনটিকে কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারও সাইবার নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করেছিল। প্রস্তাবিত সংশোধনীর কয়েকটি ধারা নিয়েও বিভিন্ন মহলের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

জবাবে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে দেশের রাজনীতিতে গালাগালির সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, যাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডে পরিণত করা হয়েছে। গালাগালি সভ্য বিষয় নয়, আমাদের সমাজও তা সমর্থন করে না। এমনকি টক শোতেও গালাগালি করা হয়। তাই বিষয়টি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে থাকা উচিত।’

বৈঠক শেষে শফিকুল ইসলাম মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে যা করেছিল, তা থেকে সরকার সরে গিয়ে ২০২৩ সালের আইনের দিকে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আইনটির সংশোধনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান করেছি।’

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত দুই বছরে রাজনীতিতে গালিগালাজের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে মত দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বিটিভিকে যুগোপযোগী করার পরামর্শ

বৈঠকে বিটিভির বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। বিটিভিকে পুরোনো অবস্থায় ফিরতে দেওয়া যাবে না বলে মত দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম একসময় বিটিভিকে বাতাবি লেবু নামে নামকরণ করেছিল। বিটিভি যাতে আগের অবস্থায় ফিরে না যায়, সরকারি দলের সদস্যরাও বিটিভিকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে মত দিয়েছেন।’

বিএনপির এমপি ফাহমিদা হক বলেন, ‘বিটিভির অনুষ্ঠান যেন দল-মত-নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। বিটিভিতে সুস্থ ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো হবে। আগের মতো শুধু দলীয় প্রচারযন্ত্র হিসেবে বিটিভিকে ব্যবহার করা হবে না। বিটিভিকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে মত দিয়েছি।’

বিটিভিতে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জামায়াতের এমপি নাজমুন নাহার। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষভাবে বিটিভিকে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নারী সাংবাদিকেরা যাতে কর্মক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ পায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে সরকারকে অনুরোধ করেছি।’

এ ছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের সংস্কার ও মেরামতের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে এবং জাতীয় প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের মতপ্রকাশ ও পেশাগত স্বাধীনতাচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এ কারণে প্রেসক্লাবের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে এর অডিটরিয়াম আরও সুন্দর ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।