সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন

শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

দেশজুড়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
ছবি : সংগৃহীত

শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ মাস পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

নির্দিষ্ট ওই দিনে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা এই কর্মসূচি চলবে, যার মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটিরও বেশি শিশুকে এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে মূল ক্যাম্পেইনের পর আরও চারদিন বিশেষ অনুসন্ধান বা চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রমতে, এবারের কর্মসূচিতে সর্বমোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ stroke ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

ক্যাম্পেইনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জানান, দেশজুড়ে এই কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যে নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি মোট ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরে ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ও ফেরিঘাটের মতো জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ক্যাপসুল ইতিমধ্যেই জনস্বাস্থ্য বিভাগের হাতে এসে পৌঁছেছে এবং তারা মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ জুন সকালে রাজধানীর শাহবাগের আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জাতীয় ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। উদ্বোধনী পর্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন। মাঠ পর্যায়ে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিজস্ব টিমের মাধ্যমে তদারকি করবেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও বিশেষ মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরে দুইবার এই ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর এটি আর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এই উদ্যোগ পুনরায় চালু করা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সবাইকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করেন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ কেবল শিশুদের রাতকানা বা অন্ধত্ব থেকেই রক্ষা করে না, বরং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে এবং সামগ্রিকভাবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে প্রথম ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে এই কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে একে জাতীয় টিকাদান দিবসের সাথে যুক্ত করা হয় এবং ২০০৩ সাল থেকে এটি ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১১ সাল থেকে কার্যক্রমটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএসের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে।