রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৪ জন পুরুষ এবং ৮ জন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলেও নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ইতোমধ্যে ১৪ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৫টি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও দুটি মরদেহ স্বজনরা গ্রহণ করেছেন। নিহতদের মধ্যে রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাসের চালক আরমান খানও রয়েছেন।
শনাক্ত হওয়া নিহতরা হলেন— রাজবাড়ী পৌরসভার রেহেনা আক্তার (৬১), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), তাজবিদ (৭), সোহা আক্তার (১১), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫); কুষ্টিয়ার মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), ইস্রাফিল (৩), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩); গোয়ালন্দের মর্জিনা আক্তার (৩২), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২); কালুখালীর ফাইজ শাহানূর (১১), নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), আব্দুর রহমান (৬); বালিয়াকান্দির আরমান খান (৩১); রাজবাড়ী সদরের লিমা আক্তার (২৬), জ্যোৎস্না (৩৫), সাবিত হাসান (৮); গোপালগঞ্জের মুক্তা খানম (৩৮); দিনাজপুরের নাছিমা (৪০); ঢাকার আশুলিয়ার আয়েশা আক্তার সুমা (৩০) এবং ঝিনাইদহের ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পুরো রাজবাড়ী জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ভিড় যেমন বাড়ছে, তেমনি এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের খোঁজে নদীর পাড়ে উদভ্রান্তের মতো ছুটছেন অনেক পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ ও মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়গুলো তদারকি করা হচ্ছে।