বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি

নেপালের দুর্গম হিমালয় শৃঙ্গগুলোতে আরোহণ করতে আসা বিদেশি পর্যটকদের জীবন নিয়ে এক ভয়াবহ জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। পর্যটকদের খাবারে সুকৌশলে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে অসুস্থ করা এবং পরবর্তীতে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় দেড়শ কোটি টাকারও বেশি (২ কোটি ডলার) বিমা জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র নেপাল পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

এভারেস্টে মৃত্যুফাঁদ: পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালের দুর্গম হিমালয় শৃঙ্গগুলোতে আরোহণ করতে আসা বিদেশি পর্যটকদের জীবন নিয়ে এক ভয়াবহ জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। পর্যটকদের খাবারে সুকৌশলে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে অসুস্থ করা এবং পরবর্তীতে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় দেড়শ কোটি টাকারও বেশি (২ কোটি ডলার) বিমা জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর চিত্র নেপাল পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

দেশটির সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (সিআইবি) জানিয়েছে, এই অপরাধী চক্রের জাল অত্যন্ত বিস্তৃত। এতে স্থানীয় শেরপা গাইড থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং নামী হাসপাতালের অসাধু কর্মকর্তারাও সরাসরি জড়িত। তদন্তে দেখা গেছে, পর্যটকদের অসুস্থ করতে গাইডরা খাবারের সঙ্গে উচ্চমাত্রার বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস বা ইঁদুরের বিষ্ঠার মতো ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে দিত। এর ফলে আরোহীদের পাকস্থলীতে তীব্র সমস্যা, বমি ভাব ও মাথা ঘোরা শুরু হতো, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতা বা ‘অ্যাল্টিটিউড সিকনেস’-এর মতো দেখাত।

অসুস্থ বোধ করলেই গাইডরা পর্যটকদের মনে মৃত্যুর ভয় ঢুকিয়ে দ্রুত হেলিকপ্টারে উদ্ধার পেতে প্ররোচিত করত। অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ পর্যটকদেরও হেলিকপ্টারে নামিয়ে এনে কয়েকজনের জন্য আলাদা আলাদা ভাড়ার বিল বিমা কোম্পানির কাছে পাঠানো হতো। নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় পৌনে পাঁচ হাজার বিদেশি পর্যটক এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে তিন শতাধিক সম্পূর্ণ ভুয়া উদ্ধার অভিযানের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে, যেখানে চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও ভুয়া মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই বিশাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে বিভিন্ন ট্রেকিং কোম্পানি, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং ল্যাবরেটরির কর্মকর্তাদের। সিআইবি প্রধান মনোজ কুমার কেসি এই অপরাধকে নেপালের জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সম্মানের ওপর বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগেও ২০১৮ সালে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কঠোর শাস্তির অভাবে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের বিমা কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এমনটি ঘটলে নেপালের প্রধান অর্থনৈতিক উৎস পর্যটন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান বসন্তকালীন আরোহণ মৌসুমে প্রতিটি উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পর্যটকদেরও গাইড বা কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে অধিকতর সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।