রবিবার, 4 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় দুপক্ষের সংঘর্ষ, চাঁদাবাজির অভিযোগ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত শাহজালাল সার কারখানার অভ্যন্তরে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানায় দুপক্ষের সংঘর্ষ, চাঁদাবাজির অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত শাহজালাল সার কারখানার অভ্যন্তরে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত দুইজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০ মে বুধবার দুপুরের দিকে কারখানার ভেতরের চত্বরে এই মারামারির সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর থেকে পুরো কারখানা এলাকা জুড়ে এক ধরনের উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ তুলেছে।

এই ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ এবং আব্দুল হামিদ রাজু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল সার কারখানার বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসার সাথে একাধিক পরিবেশক যুক্ত থাকলেও মূলত গুটি কয়েক ব্যক্তি পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে আসছিলেন। এই বাণিজ্যিক আধিপত্য নিয়ে অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্য চললেও বুধবার দুপুরে তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের একজন আব্দুল হামিদ রাজু অভিযোগ করেন, কারখানার ভেতরে ট্রাকে অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ওঠানোর সময় মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ তার ২০ থেকে ২৫ জন অনুসারী নিয়ে কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ওই সময় সাহেদ তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন বলে তিনি জানান। এই অনৈতিক দাবি মানতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে তার হাত ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।

অন্যদিকে এই বিষয়ে জানতে মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানা যায়, তিনি গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি আছেন। তবে তার পক্ষে কথা বলেন অনুসারী সাইফুল ইসলাম মিটু। তিনি রাজুর আনা অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, রাজু কারখানার সলিড হ্যান্ডলিং কাজের ঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি কারখানার দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিকদের দিয়ে অবৈধ উপায়ে নিজের ব্যক্তিগত ঠিকাদারি কাজ করিয়ে নিচ্ছেন এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ উত্তোলন করছেন। এছাড়া অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে রাজু নিজেই চাঁদাবাজি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে রাজু ও তার লোকজন মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদের ওপর চড়াও হন।

কারখানার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহজালাল সার কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক হাফিজ উদ্দিন খান জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বাইরে অবস্থান করছিলেন। তবে কারখানার ভেতর শ্রমিক বা ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে একটি মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি পরে জানতে পেরেছেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির জানান, কারখানায় গোলযোগের খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত পুলিশ দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত এজাহার জমা দেয়নি। অভিযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।