ইসরায়েলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কা—বিভিন্ন মহল এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক হিসেবে দেখছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কনেসেট একটি বিতর্কিত আইন পাস করে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইনটি বিশেষভাবে পশ্চিম তীরে সামরিক আদালতে বিচারাধীন ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেখানে মৃত্যুদণ্ডকে ডিফল্ট শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে এবং সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করতে হবে। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি ব্যতিক্রম হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দেশটি কয়েক দশক ধরে কার্যত মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ থেকে বিরত ছিল। সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬২ সালে নাৎসি কর্মকর্তা অ্যাডলফ আইখম্যানের ক্ষেত্রে।
আইনটি পাস হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্য—আইনটির ‘বৈষম্যমূলক চরিত্র’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই আইন ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এই আইন বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। সমালোচকদের মতে, এতে বিচারিক স্বাধীনতা সীমিত হবে এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইনটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনীতিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এটি দেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইতোমধ্যে আইনটির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও দায়ের হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—কনেসেটের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিম তীরের মতো অঞ্চলে এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে।
সমালোচকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো—এই আইন সহিংসতা কমানোর পরিবর্তে উল্টো উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এটি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই নতুন আইন শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে—আইনটি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।