মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জামায়াতপন্থি ৭০ মুক্তিযোদ্ধার

বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা প্রকাশ করেছে।

ফজলুর রহমানের বক্তব্যের নিন্দা জামায়াতপন্থি ৭০ মুক্তিযোদ্ধার

বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা প্রকাশ করেছে।

‘মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারে কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না’—সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটির ৭০ জন সদস্য এতে স্বাক্ষর করেছেন।

জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, সরকারদলীয় এমপি ফজলুর রহমান জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা ‘অপ্রীতিকর ও অসংসদীয়’। তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধারা জিয়াউর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে ছিলেন। তারা সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের অর্থে ভাতা পাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর অনেক মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগে যোগ দেন, কেউ জাসদে এবং বিএনপি গঠনের পর অনেকে সে দলে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে জামায়াত রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করলে কিছু মুক্তিযোদ্ধা দলটিতেও যোগ দেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেছেন, তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন এবং জামায়াতকে সমর্থন করেছেন। তাই ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যে কেউ দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

বিবৃতিতে কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়, ফজলুর রহমান প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অস্ত্র হাতে নেননি এবং মুক্তিযুদ্ধে কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন না।

এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফজলুল হক, সহসভাপতি আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, শাহাবুদ্দিন, মতিউর রহমান, সদস্য শামসুদ্দিন মিয়া, বোরহান উদ্দিন, আবদুল করিম, মোকাররম হোসেন, কামালউদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল হামিদ, দৌলত আহমেদ, নূর মোহাম্মদ, নজরুল ইসলাম বকসীসহ অন্যরা।