শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ফরিদপুরে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পুরোনো শত্রুতার জেরে এক তরুণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে বাড়তি পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরিদপুরে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি : সংগৃহীত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পুরোনো শত্রুতার জেরে এক তরুণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে বাড়তি পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত চব্বিশ বছর বয়সী সুমন শেখ ওই এলাকার আলাউদ্দিন শেখের সন্তান এবং কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বড়ভাগ গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো কোন্দল নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে এক দলের দায়িত্বে আছেন সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তাঁর ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হুসাইন শেখ। অন্য দলের নেতৃত্বে রয়েছেন নিহতের বাবা আলাউদ্দিন শেখ ও শওকত শেখ। সংশ্লিষ্টরা সবাই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

গতকাল শুক্রবার মাগরিবের পর শিহাব নামের এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে মোটরসাইকেলে চড়ে কাশিয়ানীর উদ্দেশ্যে রওনা হন সুমন শেখ। পথিমধ্যে উকিল শেখের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন তাদের পথ আটকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটবর্তী একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, সাবেক ইউপি সদস্যের ছেলে মো. হোসাইন শেখের সরাসরি নির্দেশ ও নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও তাঁর অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত সুমন ও অভিযুক্ত হুসাইন সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই। প্রায় চার বছর পূর্বে সুমনের বাবাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। এর আগে কয়েক দফায় সুমনের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি দিনসাতেক আগেও তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল, তবে সে যাত্রা রক্ষা পেলেও এবার রামদা ও চাপাতির আঘাতে তাঁর প্রাণ চলে গেল।

আলফাডাঙ্গা থানার প্রধান কর্মকর্তা ফকির তাইজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মামলার প্রস্তুতি চলছে।