দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেন।
সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এই উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি ঘরে বসেই এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, শুরুতে হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা কর্মসূচির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের সময়ও কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ বা ডাবল ডিপিং বন্ধ করা, পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পে ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলা হয়, সরকারের এই উদ্যোগ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি অর্থ বিতরণের ফলে মাঝপথে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত উপকারভোগীরাই এই সুবিধা পাবেন।
ঘনবসতিপূর্ণ কড়াইল বস্তির পাশে কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সরকার আশা করছে, পরীক্ষামূলক পর্যায় সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব যোগ্য পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।