ঢাকার সাভারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার নাম করে কয়েকশ মানুষের কাছ থেকে টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার বেদেপাড়া এলাকায় সাত্তার মাস্টার ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে একটি চক্র কয়েকশ নারী-পুরুষের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গত কয়েক দিন ধরে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের পাশাপাশি জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি সোমবার প্রকাশ্যে এলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাভারের শ্রমিক দল নেতা রাকিব খানসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি চক্রটিকে শনাক্ত করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘোষণা দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসী সাত্তার মাস্টারকে আটক করে, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
এর আগে সকালে সাভার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রামে সাত্তার মাস্টারকে পাওয়া যায়। তিনি স্বীকার করেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তিনি প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েছেন। তার দাবি, ঢাকার আগারগাঁও সমাজকল্যাণ অফিসে জমা দিয়ে তিনি কার্ড তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বেদেপাড়ার মাতবর ও শ্রমিক দল নেতা রাকিব খানের চাপের মুখে তিনি পরে টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র ফেরত দেওয়ার কথা জানান। দুপুরের মধ্যে প্রায় ৭০ জনের কাছ থেকে নেওয়া ১০০ টাকা ও এনআইডি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। তবে এখনও অনেকেই তাদের টাকা ও কাগজপত্র ফেরত না পাওয়ায় তার বাড়ি ঘিরে রেখেছেন।
ময়না নামে এক বেদে নারী বলেন, “আমরা তো লেখাপড়া জানি না। সাত্তার মাস্টার বলেছে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবে তাই আমরা কয়েকশ লোক তাকে টাকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছিলাম। আমরা টাকা ফেরত পেয়েছি কিন্তু অনেক নারী এখনো টাকা ফেরত পাননি।”
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাভার মডেল থানার ওসি ইমরান আলী বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং বিষয়টি দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।