খুলনার পৃথক দুটি স্থান থেকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় এক নারীসহ দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজনকে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রোববার সকাল পর্যন্ত মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের পুতলাখালী গ্রাম থেকে ভারতী মন্ডল নামে পঞ্চান্ন বছর বয়সী এক নারীর গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী ওই এলাকার প্রভাষ মন্ডলের স্ত্রী এবং পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) চিন্ময় মন্ডলের মা। জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত ভারতী মন্ডলের বাড়িতে হানা দেয়। তারা তাকে জিম্মি করে ঘরে থাকা আসবাবপত্র তছনছ ও মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে ঘাতকরা তাকে গলাকেটে হত্যা করে লাশ পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই চিন্ময় মন্ডল বর্তমানে শরণখোলা থানায় কর্মরত আছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
অন্যদিকে, শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে খুলনা মহানগরীর সোসাইটি হোটেলের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ থেকে জীবন কুণ্ডু নামে পঞ্চাশ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নগরীর লবণচরা থানার রিয়া বাজার এলাকার রবিন কুণ্ডুর ছেলে। পেশায় দর্জি জীবন কুণ্ডু নগরীর আক্তার চেম্বারে টেইলার্সের ব্যবসা করতেন এবং মাঝেমধ্যে ওই হোটেলে অবস্থান করতেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, নিহতের মরদেহের পাশ থেকে একটি বিষক্রিয়াজাত কীটনাশকের বোতল পাওয়া গেছে। প্রাথমিক আলামত দেখে পুলিশ ধারণা করছে এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।