গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধা প্রদানকে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানাতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে বগুড়ার নির্বাচনী সহিংসতায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান। তিনি উল্লিখিত দুই আসনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করে নতুন করে তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যখন সংসদ সদস্যরা এবং নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু বলে দাবি করছেন, তখন গণমাধ্যমের চিত্রে বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশের দৃশ্য ফুটে ওঠায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতার দাবিকে বাস্তবতাবিবর্জিত উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, দৃশ্যমান অনিয়মের পরও কীভাবে এমন দাবি করা সম্ভব।
বিগত দিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের গড়ার স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, যারা এই গণঅভ্যুত্থানের সুফল হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসেছেন, তাদের অধীনে পরিচালিত প্রথম নির্বাচনেই বিগত আওয়ামী আমলের দুঃশাসনের প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং বিপ্লবের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মনে করেন।
বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো দ্রুত উপস্থাপন ও অনুমোদন করা প্রয়োজন। এগুলোকে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করে আইনি ভিত্তি প্রদান করলেই বর্তমান অস্থিরতা দূর করা সম্ভব হবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ এবং এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন।