বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ইবির ৩ শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও মারধর, থানায় মামলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর ওপর স্থানীয়দের হামলা, দুই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ইবির ৩ শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও মারধর, থানায় মামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর ওপর স্থানীয়দের হামলা, দুই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এজাহারে মো. হাসিবুল রহমান, মো. সোহেল আহম্মদ, খন্দকার সাব্বির ও মো. মাশরাফি আলম প্রাপ্পোসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় একদল স্থানীয় যুবক ছাত্রীদের লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ শুরু করে। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে এবং দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। তাদের বাঁচাতে সহপাঠী বিএম শাকিল জিম এগিয়ে এলে তাকেও শারীরিকভাবে জখম করা হয়। হামলার এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, পুলিশের উপস্থিতিতেও অভিযুক্তরা অত্যন্ত উদ্ধত ও মারমুখী আচরণ অব্যাহত রাখে। পরবর্তী সময়ে সেই ভিডিওগুলো ভুক্তভোগীদের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে মানহানিকর ক্যাপশনসহ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঝিনাইদহ আকাশ, নবগঙ্গা টিভি, ডেইলি ঝিনাইদহসহ বেশ কিছু ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সাইবার বুলিং করা হচ্ছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কিছু মাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরানো সম্ভব হয়েছে, তবে এখনো অপপ্রচার বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইশমাম হোসেন তন্দ্রা জানান, সেদিন তিনি তার স্বামী ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। ক্যাম্পাস বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় অতর্কিতভাবে তারা এই হেনস্তার শিকার হন। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আপত্তিকর কন্টেন্টগুলো দ্রুত অপসারণ এবং ভবিষ্যতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুল আরেফিন জানান, ঘটনার দিন পুলিশ উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিক মীমাংসার চেষ্টা করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিষয়টি জটিল করা হয়েছে বলে তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে মামলার নথিপত্র এখনো পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। কার্যালয়ে ফিরে এজাহার যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।