চলমান ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিগত শতাব্দীর ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতোই এক দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল সমীকরণে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমেরিকার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে এই খবরটি প্রকাশ্যে এসেছে।
একটি প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলেই যে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল হবে, এমন ভাবনা বাস্তবতাবর্জিত। উল্টো এই ধরনের বৈরী পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে এক অন্তহীন এবং অনিশ্চিত গোলযোগের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, আগামী দিনগুলোতে তেহরানের সাথে কোনো ধরনের বোঝাপড়া বা চুক্তি হলেও দেশটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। এর পাশাপাশি নিজেদের পরমাণু প্রকল্প, বিশেষ করে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণের কাজ এগিয়ে নিতে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল অবলম্বন করবে।
প্যানেটার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেল আবিবের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হোয়াইট হাউস হয়তো মনে করেছিল যে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের ওপর আঘাত হানলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা খুব দ্রুত ভেঙে পড়বে। তবে ওয়াশিংটনের এমন রণকৌশলকে একটি বড় ধরনের কৌশলগত ভুল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সাবেক এই প্রতিরক্ষা প্রধান মনে করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী ও কার্যকর। ফলে দেশটির বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তিকে অপরিবর্তিত রেখে সাময়িকভাবে যে চুক্তিই করা হোক না কেন, তা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কোনো সমাধান বয়ে আনবে না।
সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক শক্তিকে খাটো করে দেখার যেকোনো প্রয়াস পরিস্থিতিকে আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে এক নতুন এবং ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করবে।