ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের জন্য এমন একজন নেতৃত্ব তিনি প্রত্যাশা করেন, যিনি দেশটিকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেবেন না। চলমান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং ইরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিবিসির বরাতে এই ঘটনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ইরানের জন্য ‘পছন্দের প্রেসিডেন্ট’ চান ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একই সমস্যা নিয়ে পুনরায় লড়তে চায় না। তিনি চান ইরানে এমন একজন প্রেসিডেন্ট আসুক, যিনি শান্তি বজায় রাখবেন। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে তিনি তিনজনকে ‘উপযুক্ত প্রার্থী’ হিসেবে বিবেচনা করছেন, যদিও তাদের নাম তিনি প্রকাশ করেননি। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তেহরানে ক্ষমতার পালাবদল বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই প্রতিফলন ঘটেছে।
নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ও ইরানের প্রতিক্রিয়া ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের প্রতি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর আহ্বান জানিয়েছেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এর অর্থ হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়া, যাতে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো লড়াই করার সাহস না পায়। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, শত্রু পক্ষ ইরানের আত্মসমর্পণের যে স্বপ্ন দেখছে, তা তারা কবরে নিয়ে যাবে। ইরান কোনোভাবেই মাথানত করবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।
জ্বালানি বাজার ও অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ তেলের দাম নিয়ে ট্রাম্পের ভাষ্য হলো, যুদ্ধের প্রভাবে শুরুতে দাম কিছুটা বাড়লেও সংঘাত শেষে তা খুব দ্রুত নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে যে, মার্কিন হামলায় তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি শোধনাগার ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ পরিচালনা করছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে।