সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জানুয়ারিতে ঢাকায় ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’

জানুয়ারিতে ঢাকায় ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’
জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’। ছবি: সংগৃহীত

 

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে উসকে দিতে জানুয়ারিতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি এবং চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। স্থান হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, আগারগাঁও। প্রদর্শনী আয়োজন করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) যৌথভাবে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শনীর বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন,

“বাংলাদেশ এখন আর কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়। বরং ধীরে ধীরে প্রযুক্তি উৎপাদন, উদ্ভাবন ও রপ্তানির একটি সম্ভাবনাময় বৈশ্বিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর ভর করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এক্সপোর কাঠামো ও আয়োজন তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ৬,৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে, যেখানে থাকবে হল অব ফেম, সেলিব্রেটি, হারমনি, কার্নিভাল, মিল্কিওয়ে, মিডিয়া বাজার ও উইন্ডি টাউন। প্রদর্শনীকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লোকাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারার্স, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার এবং বিটুবি ম্যাচমেকিং জোন।

তিনি আরও বলেন,

“এবারের আয়োজনে তিন লাখ দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ কোম্পানি এবং সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সেমিনার, প্যানেল আলোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি-নির্ধারণী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।”

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন,

“এবারের এক্সপোতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও গবেষণার একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা হবে।”
তিনি আরও জানান, হাই-টেক পার্কগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা নিশ্চিত করা হয়েছে। কর অবকাশ, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও লজিস্টিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রণোদনা বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বিসিএস সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন,

“১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিএস দীর্ঘদিন ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাফল্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে কাজ করছে। এই প্রদর্শনীর সময়োপযোগী সেমিনার ও আলোচনা সভা দেশি-বিশ্বি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে এবং আইসিটি খাতে দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে।”

মেলা আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনীতে অংশ নেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শতাধিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা। মোট ১৩০টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে নতুন প্রযুক্তি, সেবা, জীবনধারা ও উদ্ভাবন উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আইসিটি প্রকল্পও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।