বৃহস্পতিবার, 5 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা হবে

আসন্ন ডিসেম্বর মাসে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তা নবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গঙ্গা চুক্তি নবায়ন করা হবে
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ডিসেম্বর মাসে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তা নবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি উল্লেখ করেন, উজান ও ভাটির দেশের মধ্যকার নদীকেন্দ্রিক সমস্যা নিরসনে যেসব আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও প্রটোকল রয়েছে, সেগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান সরকার সুদৃঢ় কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পানির ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করেই এই চুক্তি নবায়ন করবে।

মজুলম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে 'ভাসানী জনশক্তি পার্টি' আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। মওলানা ভাসানীর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সময়ে উজানের দেশের সাথে পানি বণ্টনের কোনো সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও এই সংকটের যে মারাত্মক ভবিষ্যৎ পরিণতি হতে পারে, তা তিনি অনেক আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন ছিল জনকল্যাণ ও সাধারণ মানুষকে এক সুতায় বাঁধা। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, ধর্মীয় মূল্যবোধের মজবুত ভিত্তি ছাড়া এই ভূখণ্ডের নিজস্ব সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই সফল করা সম্ভব নয়। তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার মওলানা ভাসানীর সেই আদর্শিক ভাবনার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং তাঁরই প্রদর্শিত প্রতীক 'ধানের শীষ' ধারণ করে। এই রাজনৈতিক দর্শনের মাঝেই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ফারাক্কা সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক কূটনৈতিক সমাধানের পথ উন্মোচিত রয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. জসীম উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ খান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীরসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ মওলানা ভাসানীর আদর্শিক চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবেশী দেশের একপেশে পানি নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।